Ticker

6/recent/ticker-posts

কেন ব্রুস লি একজন হিউম্যান ড্রাগন ছিলেন | Why Bruce Lee Was A human dragon | Positive Stories Bangla | Bruce lee biography

কেন ব্রুস লি একজন হিউম্যান ড্রাগন ছিলেন | Why Bruce Lee Was A human dragon | Positive Stories Bangla | Bruce lee biography


ব্রুস লি বলেছিলেন - পরাজয় হল মনের একটা অবস্থা, পরাজয়কে বাস্তব হিসেবে গ্রহণ না করা পর্যন্ত কেউ পরাজিত হয় না।


Bruce lee biography in bengali

এই দুনিয়াতে এমন কিছু অল্প মানুষ আছেন যারা খুব অল্প বয়সেই খ্যাতি, সুনাম, এবং সফলতা হাসিল করে এ দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন। উনাদের মৃত্যুর কয়েক দশক পরেও আজও উনাদের নাম মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হতে থাকে। এমনই এক মহান ব্যক্তিত্ব ছিলেন ব্রুস লি। যাকে এই দুনিয়ার best Martial artist বলা হয়ে থাকে।

লোকমুখে কথিত ছিল যখন তিনি শ্যুটিং করতেন উনার অ্যাকশন দৃশ্য 32 frames per second এই গতিতে এ slow motion এ দেখানো হত। কারণ উনার অ্যাকশন এর আসল গতি খালি চোখে দেখা সম্ভব ছিল না। ব্রুস লি স্কুলের এবং কলেজের পড়া শুনায় কিছুতেই মন বসাতে পারতেন না। কিন্তু উনার ব্যক্তিগত লাইব্রেরীতে 2000 এর উপরের ও বেশী বই ছিল।

এই দুনিয়ার বেশকিছু মানুষ ব্রুস লি'কে একজন মহান দার্শনিক হিসাবেও মানেন। দেখা গেছে অনুশীলন করার সময় যেখানে সাধারন একজন Martial artist ৩৫ থেকে ৭৫ কেজি পাঞ্চিং ব্যাগ এর ব্যবহার করেন, সেখানে ব্রুস লি ১৫০ কেজি পাঞ্চিং ব্যাগ ব্যবহার করতেন। কারণ হালকা পাঞ্চিং ব্যাগ উনার পাঞ্চ এবং কিক সহ্য করতে পারতো না। অথচ ব্রুস লি'র মৃত্যু আজও মানুষের কাছে একটা রহস্য।

Bruce Lee success story in bengali
Bruce Lee success story in bengali 

তো বন্ধু আজ এই ভিডিওর মাধ্যমে আমি আপনাদের ব্রুস লি সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য দেব যা আপনি এর আগে সচরাচর কখনও শোনেন নি। এবং এর সাথে ব্রুস লির অর্জিত দক্ষতা সম্পর্কে এমন কিছু কথা বলবো যা শুনে আপনি শিউরে উঠবেন।

ব্রুস লি জন্ম ২৭ নভেম্বর ১৯৪০ সালে আমেরিকার সানফ্রান্সিসকোতে বসবাস করা এক চীনা পরিবারে। ব্রুস লির মা ছিলেন জার্মান। এই কারনে ব্রুস লি'কে হাফ জার্মানও বলা হত। ব্রুস লি'র বাবার নাম ছিল Lee Hoi-chuen। যিনি একজন অপেরা আর্টিস্ট এবং একজন চলচ্চিত্র অভিনেতা ছিলেন। এবং মায়ের নাম ছিল Grace Ho। যিনি একজন housewife ছিলেন। ব্রুস লি'কে নিয়ে সবশুদ্ধ ওরা চার ভাইবোন ছিলেন।

ব্রুস লি'র পরিবার খুব তাড়াতাড়ি আমেরিকা থেকে হংকং এ ফেরত চলে আসেন। ব্রুস লি'র বাবা যেহেতু একজন চলচ্চিত্র অভিনেতা ছিলেন, এবং film industry তে উনার খুব চেনা জানা ছিল, সেহেতু ব্রুস লি ৬ বছর বয়েসেই শিশু শিল্পী হিসাবে চলচ্চিত্রে অভিনয় করা শুরু করে দেন। খুব কম সময়ে ব্রুসলি একটার পর একটা প্রায় ২০ টা ছবিতে অভিনয় করেছেন।

ব্রুস লি যখন ছোট ছিলেন তখন শারীরিকভাবে খুবই কমজোর ছিলেন। উনারা হংকং এ এমন একটা জায়গায় বসবাস করতেন যেখানের অলি গলির বাচ্চারা উনাকে প্রায়ই বিরক্ত করত এবং মাঝে মাঝে মার-ধরও করত। তো এর থেকে বাঁচার জন্য ব্রুস লি'র বাবা ব্রুস লি'কে Martial art এবং self defence মানে আত্মরক্ষা করার প্রশিক্ষণ নিতে বললেন।

ব্রুস লি Martial art এর প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করলেন। এরপর কিছুদিনের মধ্যে উনি এতে এতটাই মাহির হয়ে উঠলেন, যে বাচ্চারা আগে উনাকে প্রায়ই বিরক্ত করত এবং মার-ধরও করত তাদের চরম শিক্ষা দিতে শুরু করলেন। ১৩ বছর বয়েসে ব্রুস লি YIP man এর কাছ থেকে Martial art সাথে সাথে wing chun এর প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করলেন। YIP man কেই ব্রুস লি নিজের আসল গুরু মানতেন।

এছাড়া ব্রুস লি ভারতের গামা পালোয়ান এর দ্বারাও ভীষণ ভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। যখন ব্রুস লি Martial art এর দক্ষতায় নিজেকে নিখুঁত করে তুললেন, তখন তিনি হামেশাই আশেপাশের ছেলে ছোকরাদের ধুল চাটিয়ে ছাড়তেন। ব্রুস লি'র বাড়িতে তার সম্পর্কে অনেক নালিশ আসতে থাকে। একবার তো পুলিশ ও উনার বাড়িতে চলে আসে।

এরপর ব্রুস লি'র বাবা ব্রুস লি'কে আবার আমেরিকায় ফেরত পাঠনোর নির্নয় নিলেন এবং ব্রুস লি'কে বললেন সে যেন তার বাকি পড়াশোনা সেখানেই শেষ করেন। ব্রুস লি আমেরিকায় গিয়ে ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় এ ভর্তি হলেন। কিন্তু পড়াশোনায় তার মন ছিল না। তার বদলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য ছাত্রদের Martial art এর প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করলেন। এবং তাদের থেকে পয়সা রোজগার করতে শুরু করলেন।

এইসব চলতে চলতেই উনার পরিচয় হলো linda emery এর সাথে। এবং দুজনেই একে অপরকে ভালোবেসে ফেললেন। ১৯৬৪ সালে linda এবং ব্রুস লি বিয়ে করলেন। এরপরে উনাদের দুটো বাচ্চাও হয়। মেয়ের নাম হল Shannon Lee, এবং ছেলের নাম Brandon Lee। ধীরে ধীরে Martial art এর দুনিয়ায় ব্রুস লি নিজের পরিচিতি বারাতে লাগলেন।

কথিত আছে ব্রুস লি তার নানচাকুর দ্বারা ৭২৫ কেজি শক্তি উৎপন্ন করতে পারতেন। এই শক্তি কাউকে মৃত্যুর দ্বারে পৌঁছানোর মতো যথেষ্ট। কিন্তু ব্রুস লি জলকে ভীষণ ভয় পেতেন, যার ফলে তিনি জীবনে কোনদিন সাঁতার শেখেন নি। আপনি আরো জানলে অবাক হবেন ব্রুস লি'র একটি পাঞ্চ ১৪৮ কেজি force generate করতে সক্ষম ছিল।

এবার ব্রুস লি'র একটি পাঞ্চ কতটা ঘাতক হতে পারে, এর আন্দাজ এই ভাবে আপনি করতে পারেন। যদি কোন গাড়ি প্রতি ঘণ্টায় ৪৮ কিমি বেগে কাউকে ধাক্কা মারে, অন্যদিকে ব্রুস লি কাউকে একটি পাঞ্চ এর দ্বারা আঘাত করে তা প্রায় সমসাময়িক। বরং ব্রুস লি'র পাঞ্চ তার থেকেও বেশী খতরনাক যা একজন ব্যক্তির পলকে মৃত্যু ঘটাতে পারত।

ব্রুস লি'র হাতে এতটাই শক্তি ছিল যে, যদি তিনি কাউকে তিন ইঞ্চি দূরত্বে থেকেও হামলা করতেন, তো সে ৯ থেকে ১০ ফিট দূরে গিয়ে পরত। এবং পায়ের শক্তি দ্বারা যে কাউকে ২০ মিটার দূরত্ব পর্যন্ত ছুড়ে ফেলতে সক্ষম ছিলেন। 5 ফুট 8 ইঞ্চি উচ্চতা এবং ৬০ থেকে ৬২ কেজি ওজন এক ব্যক্তি এতটা শক্তি কিভাবে উৎপন্ন করতে পারে, এটা ভেবে সবাই বিস্মিত হয়ে যেতেন।

জ্যাকি চ্যান ও ব্রুস লি'র দ্বারা অনেক অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন এবং উনাকে নিজের আদর্শ বলে মানতেন। ব্রুস লি একজন ভালো dancer ও ছিলেন। ১৯৫৮ সালে উনি এক dance প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। এরপর ১৯৬২ সালে একটি Martial art টুর্নামেন্ট এ তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে মাত্র ১১ সেকন্ডে ১৫ টি ঘুষি এবং একটি কিকের সাহায্যে ধারাসাহী করে ফেলেছিলেন।

বলা হয়ে থাকে ব্রুস লি রোজ ৫০০০ এর ও বেশী পাঞ্চ practice করতেন এবং একবারে ১৫০০ push-up দিতে পারতেন। উনার দু'আঙ্গুল এর দ্বারা push-up দেখার জন্য বহুদূর দূর থেকে মানুষ এসে ভিড় করতেন। ওয়াশিংটনে ব্রুস লি Jun Fan Gung Fu নামে একটি Institute খুলেছিলেন। যেখানে তিনি Martial art ছড়াও নিজের বানানো কৌশল এবং action শিখাতেন।

ধীরে ধীরে Martial art এর দুনিয়ার ব্রুস লি এক কিংবদন্তি হয়ে উঠলেন। কিন্তু হলিউডে তখন ওনার নামের ডঙ্কা বাজা বাকি ছিল। ১৯৬৪ সাথে ব্রুস লি একটি TV series এ কাজ করলেন। যার নাম ছিল The green Hornet। এই সিরিয়ালটি ভীষন হিট হয়েছিল। কিন্তু ব্রুস লি'র আসল ফিল্ম ক্যারিয়ার শুরু হয় ১৯৬৯ সালে। কিছু ছবিতে তিনি কাজও করলেন এবং মানুষের উনাকে পছন্দও হলো।

কিন্তু উনি আসল পরিচিতি পেলেন ১৯৭২ সালে তৈরী The way of the Dragon সিনেমায়। এই সিনেমাটি উনাকে হলিউডের বড় বড় তারকার মাঝে এনে দাড় করালেন। এবং তারপর তিনি একজন স্টার হওয়ার সাথে সাথে একজন নির্দেশক, লেখক এবং কোরিওগ্রাফার হয়ে গেলেন। ১০ মে ১৯৭৩ সাথে ব্রুস লি তার প্রথম সিনামা Enter the Dragon এর শুটিং করছিলেন। তখন তিনি প্রথম বার অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান।

এরপর খুব তাড়াতাড়ি উনাকে হংকংয়ের baptist hospital এ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ডাক্তার উনাকে পরীক্ষা করে বললেন ব্রুস লি cerebral Edema নামে রোগে আক্রান্ত। কিছুদিনের মধ্যেই সেই অসুস্থথা থেকে বেরিয়ে এসে তিনি আবার নিজের কাজে লেগে গেলেন। এরপর তিনি উনার দ্বিতীয় সিনেমা game of death এর পরিকল্পনা করতে লাগলেন। এই সিনেমায় তিনি James Bond খ্যাত স্টার George Lazenbay সাথে কাজ করার পরিকল্পনা করছিলেন।

এবং কিছুদিনের মধ্যেই কাজের খাতিরে দুজনের মধ্যে একটি মিটিং ও fixed হয়ে গেছিল। কিন্তু ২০ জুলাই ১৯৭৩ আচমকাই ব্রুস লি'র শরিরে ভীষণ ব্যথা অনুভব হতে লাগলো। তিনি পেইন কিলার ট্যাবলেট খেলেন এবং আরাম করার জন্য শুয়ে পড়লেন। কিন্তু কে জানত ব্রুস লি'র এটাই ছিল শেষ ঘুম। তিনি আর বিছানা ছেড়ে ওঠেনি। ব্রুস লি'কে Queen Elizabeth Hospital নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে উনাকে মৃত বলে ঘোষনা করা হয়।

পর্যবেক্ষণ করে পাওয়া গেল ব্রুস লি'র মৃত্যু হয়েছে এক allergic reaction এর কারনে। আসলে ব্রুস লি অত্যাধিক মাত্রায় hashish নিতেন। এটি হল এক প্রকারের ড্রাগ। যা একসময় legal ছিলো। কিছু ডাক্তারের কথায় hashish এবং পেইন কিলার এর reaction এর কারনেই ব্রুস লি'র মৃত্যু হয়েছিল।

Bruce lee biography

এছাড়া ব্রুস লি sweat gland surgery করিয়েছিলেন। যাতে উনার ঘাম না বের হয়। যেখানে ঘাম আমাদের শরীরে স্থিত toxin component কে বাইরে বার করে আনর কাজ করে। যদি এগুলি বাইরে না বের করা হয় তো এতে আমাদের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

এই সবগুলোর সাথে আরেকটি মতবাদ হলো - ব্রুস লি এবং তার পরিবারের সাথে কেউ যাদু টোনা করে রেখেছিল। এটা এই কারণে বলা হয়ে থাকে, কারন ব্রুস লি'র ছেলে brandon lee এর মৃত্যু 31 March 1993, মাত্র ২৮ বছর বয়েসে হয়ে গিয়েছিল।

ব্রুস লি'র মৃত্যুর পরেও উনার game of death এবং Dragon the Bruce Lee story এইরকম অনেক সিনেমা রিলিজ হয়েছিল। এছাড়া উনার নাম ব্যবহার করে আরো কিছু ডুবলিকেট সিনেমাও তৈরি করা হয়েছিল। যার ফলে প্রযোজক অনেক অনেক অর্থ উপার্জন করেছিলেন। ব্রুস লি'র মৃত্যুর পর হংকং সরকার পর্যবেক্ষণ করার জন্য একটি IO গঠন করেছিলেন। কিন্তু উনার মৃত্যর রহস্য আজ অবধি খুঁজে পাওয়া যায় নি।

হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া মর্মবেদনা দায়ক কিছু উক্তি | 30 heart touching quotes |Best Powerful Motivational quotes in bangla

ব্রুস লি'র স্ত্রী Linda lee পরে উনার জীবনের উপর ভিত্তি করে একটি বই লিখেছিলেন। বইটির টাইটেল ছিল The man only I knew। the end magazine এ ব্রুস লি'কে বিংশ শতাব্দীর সবথেকে প্রভাবশালী ১০০ জন ব্যক্তিদের সূচিতেও সামিল করা হয়েছিল। ২০১৩ সালে আমেরিকার চায়না টাউনে ব্রুস লি'র একটি স্ট্যাচু স্থাপন করা হয়।

তো বন্ধু এটা ছিল ব্রুস লি'র জীবনের সম্পূর্ণ গল্প। যে কিভাবে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির জন্ম হয়েছিল। এবং কিভাবে নিজের পরিশ্রম এবং দক্ষতার উপর ভিত্তি করে কম বয়েসেই বড় থেকে আরো বড় সফলতা অর্জন করে মাত্র ৩২ বছর বয়েসেই এই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। আজও Martial art শিক্ষা রত ছেলেমেয়েরা ব্রুস লি কেই তাদের আদর্শ মানেন।

Think positive - Talk positive - Feel positive


বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ

‘Freedoms Today’ নামে আমাদের আরেকটি YouTube channel আছে। যেখানে আমরা Network marketing-এর সম্বন্ধে ভিডিও বানিয়ে থাকি। আপনি যদি Network marketing-এর সম্বন্ধে জানতে চান এবং Network marketing শিখতে চান তো এই channel টি follow করতে পারেন। এবং আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে আপনি আমাদের website visit করতে পারেন।

Freedoms Today Website: http://www.freedomstoday.com/

Freedoms Today YouTube channel: https://www.youtube.com/FreedomsToday

Email: freedomstoday1@gmail.com






Post a Comment

0 Comments