Ticker

6/recent/ticker-posts

তিন হাস্যকর ভিক্ষুক| Three laughing monks story | Zen motivation | Positive Stories

তিন হাস্যকর ভিক্ষুক| Three laughing monks story | Zen motivation | Positive Stories


হাসি তিন ধরনের হয়ে থাকে। প্রথম - যখন আমরা অন্যের উপর হাসি। এই হাসি হল সবথেকে নিকৃষ্টতম। দ্বিতীয় - যখন আমরা নিজের উপর হাসি। এই হাসি হলো উৎকৃষ্টতম হাসি। আর তৃতীয় - যখন আমরা সর্ব পরিস্থিতিতে হাসি। সর্ব পরিস্থিতি মানে - মন্দ হোক, ভালো হোক, অযৌক্তিক হোক যেমনি হোক সবকিছু মঞ্জুর করে নিয়ে সম্পূর্ণ সমগ্রতার সঙ্গে হাসি। একেই বলা হয় ব্রম্ভান্ডেয় হাসি।


Life changing story in bengali

প্রাচীন চীনের উত্তরভাগ এ তিনজন বৌদ্ধ ভিক্ষুক থাকতেন। উনাদের নাম কেউ জানত না। কারণ উনারা কোনদিন কাউকে উনাদের নাম বলেননি। কেউ উনাদের নাম ধরে জানতেন না বটে, কিন্তু সাধারণ মানুষ উনাদের তিন হাস্যকর ভিক্ষুক হিসেবে জানতেন।

উনারা বৌদ্ধ ভিক্ষুক ছিলেন। কিন্তু উনারা কোনদিন কাউকে কোন শিক্ষা প্রদান করেননি। শুধু তাই নয় উনারা না তো কাউকে কোনদিন কোন উপদেশ দিয়েছেন, না তো কোন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। উনারা কেবল একটা কাজই করতেন। শুধু হাসতেন, শুধু হাসতেন আর হাসতেন।

কোন জায়গায় যাত্রা করতে হলে তিনজনে একসাথে যাত্রা করতেন। উনারা তিনজন এক একটি করে গ্রামে প্রবেশ করতেন আর সেই গ্রামের মাঝখানে দাঁড়িয়ে শুধু হাসতেন আর হাসতেন। উনারা মন খুলে হাসতেন। উনারা এমন ভাবে হাসতেন যেন মনে হত হাসি'ই উনাদের একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান এবং সাধনা। হাসি'ই উনাদের সংকল্প, হাসি'ই উনাদের প্রান।

life changing story
life changing story

আশেপাশের প্রত্যেকটি মানুষ উনাদের হাসির টানে মন্ত্রমুগ্ধের মতো চলে আসতেন। ধীরে ধীরে সেখানে মানুষের ভিড় জমে যেত। এবং সেই ভিড়ের মধ্যে এমন একটা মানুষ ছিল না, যে উনাদের সাথে না হাসতেন। যখন পুরো গ্রামে হাসির ঢেউ খেলে যেত, সেই মুহুর্তে উনারা অন্য আরেকটি গ্রামের দিকে এগিয়ে যেতেন।

উনাদের প্রার্থনা, উনাদের উপদেশ এবং উনাদের শিক্ষা কেবল মাত্র কেবল হাসি'ই ছিল। উনাদের হাসতে দেখে মানুষ তাদের সব দুঃখ-বেদনা ভুলে যেতেন এবং উনাদের সাথে হাসতে থাকতেন। উনাদের মত আধ্যাত্বিক গুরু চিনি না তো কোন দিন ছিল, না তো পরে এসেছে। উনারা ধীরে ধীরে চীনে প্রসিদ্ধ হতে লাগলেন। উনারা বহুৎ সম্মান এবং ভালোবাসা পেতে থাকলেন।

উনারা কখনো কোনো কথা বলতেন না। কিন্তু মনে হতো উনাদের হাসি অনেক কিছু বলছে। এমন মনে হতো যেন উনাদের হাসিতে ঈশ্বরের কোন উপদেশ লুকিয়ে আছে। এমন মনে হতো উনারা যেন এই ব্রম্ভান্ডের রহস্য বুঝে গেছেন, প্রকৃতির রহস্যকে জেনে গেছেন। উনারা এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে যাত্রা করে বেড়াতেন এবং মানুষকে আনন্দ দিয়ে ভরে দিতেন।

ধীরে ধীরে উনাদের বয়েস হয়ে এসেছিল। তো একদিন এক গ্রামে থাকাকালীন উনাদের তিজনের মধ্যে এক ভিক্ষুকের মৃত্যু হল। পুরো গ্রাম আশা করেছিল আজ বাকি দুজন ভিক্ষুক আবশ্যই কাঁদবেন। তো সেটা দেখার জন্য দূর দূর থেকে মানুষ এসে জড়ো হতে লাগলো এই নাটকীয় মুহূর্তের সাক্ষী থাকবে বলে। উরা দেখতে চায় আজ এই দুই ভিক্ষুক কি ভাবে কাঁদবেন।

এই ঘটনাটা প্রত্যেকের স্মরণে থাকবে। কারণ আজ অব্দি এই তিনজনকে উরা কেবল হাসতেই দেখেছেন। কিন্তু পুরো গ্রাম এটা দেখে আশ্চর্য হয়ে গেল যে, সেই দুই ভিক্ষুক মৃত ভিক্ষুকের সামনে দাঁড়িয়ে আরো জোরে জোরে হাসছেন। উনারা হাসতে হাসতে মাটিতে পরে লুটোপুটি খাচ্ছেন। গ্রামের মানুষ উনাদের বোঝানোর চেষ্টা করলেন আজকের দিনে হাসা উচিত নয়। আপনাদের শোক পালন করা উচিত।

সেইদিন দুই ভিক্ষুক প্রথমবার কিছু বললেন। উনারা বললেন আমরা হাসছি এই ভিক্ষুকের জিতে যাওয়ার কারণে। আমরা আনন্দ উৎসব করছি কারণ ও জিতে গেছে। আমরা কালকে রাত্রে একটা শর্ত রেখেছিলাম তিনজনের মধ্যে কে প্রথম মৃত্যুবরণ করে অন্য দুজনকে হারাবে। সেই শর্ত ও জিতে গেছে। আমরা হেসে ওর জিতে যাওয়ার খুশী মানাচ্ছি।

বহু বছর ধরে আমরা একসাথে আছি, একসাথে হেসেছি। এবং আজকে ওকে শেষ বিদায় দেওয়ার জন্য এর থেকে ভালো উপায় আর কিছুই হতে পারে না। আমরা কেবল হাসতেই পারি। গ্রামের মানুষ মৃত ভিক্ষুকের চেহারা দেখে অনুভব করলেন, যেন মনে হচ্ছে উনিও এই দুই ভিক্ষুকের মতোই হাসছেন। চীনে মৃত ব্যক্তিকে স্নান করানো এবং কাপড় পরিবর্তন করার পরম্পরা ছিল।

কিন্তু মৃত ভিক্ষুক তার সাথীদের একাজ করতে বারণ করে গেছেন। উনি বলেছিলেন - আমাকে না তো স্নান করিও, না তো আমার কাপড় পরিবর্তন করো। কারণ আমি কখনো অশুদ্ধ হই নি। হাসির ফোয়ারা আমার উপর এতটাই বর্ষেছে যে আমার মধ্যে কোন অশুদ্ধতা থাকেই নি। এই দুনিয়ার কোন ময়লা বা মলিন জিনিস হাসির দ্বারা আমি আমার সংস্পর্শে আসতেই দিই নি।

মৃত ভিক্ষুককে সেই পুরনো কাপড়ের সাথেই চিতার উপর শুইয়ে দেওয়া হল। আর যখন চিতায় আগুন দেওয়া হলো তখন সেই ভিক্ষুকের কাপড় ফাঁটতে শুরু করে। মৃত ব্যক্তি তার কাপড়ের মধ্যে পটকা লুকিয়ে রেখেছিলেন, যা আগুন লাগতেই ফাঁটতে শুরু করে। এবং সারা আকাশে রংবেরঙের আতশবাজি ছড়িয়ে পরে চমকাতে থাকে।

সকল মানুষ আশ্চর্য হয়ে গেছিলেন। চতুর্দিকে রংবেরঙের রশ্মি ছড়িয়ে পড়েছিল। আর এটা দেখে সারা গ্রাম জোরে জোরে হাসতে থাকে। এই মৃত ভিক্ষুক যেতে যেতে শেষবারের মতো সারা গ্রামকে আরেকবার হাসিয়ে গেলেন। সেই ভিক্ষুক শিখিয়ে গেলেন ব্রম্ভান্ডের এই অজানা রহস্য কে।

এই গল্পটি শুনার পর আপনি জীবনে হার মানা ছেড়ে দেবেন| Inspirational Story in Bengali | Positive Stories

Life changing story

তাই বলব - প্রাণ খুলে হাসো, কারণ হাসি কেবলমাত্র মানুষের ভাগ্যেই রয়েছে। হাসো, কারণ হাসি হল তুমি আজ অবধি যত প্রার্থনা করেছ তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রার্থনা। । হাসো, কারণ তোমার নির্মল হাসি হল তোমার আত্মার চুম্বন। হাসো, কারণ হাসিই হলো শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার যার সমানে কোন শত্রু টিকে থাকতে পারে না।

সব কিছু ভুলে প্রান খুলে হাসো। সুখ-দুঃখ, ব্যথা বেদনা সবকিছু ভুলে যাও, শুধু হাস। যাতে তুমি সেই ব্রহ্মান্ডেয় হাসির অংশ হতে পারো।

Think positive - Talk positive - Feel positive



বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ

‘Freedoms Today’ নামে আমাদের আরেকটি YouTube channel আছে। যেখানে আমরা Network marketing-এর সম্বন্ধে ভিডিও বানিয়ে থাকি। আপনি যদি Network marketing-এর সম্বন্ধে জানতে চান এবং Network marketing শিখতে চান তো এই channel টি follow করতে পারেন। এবং আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে আপনি আমাদের website visit করতে পারেন।

Freedoms Today Website: http://www.freedomstoday.com/

Freedoms Today YouTube channel: https://www.youtube.com/FreedomsToday

Email: freedomstoday1@gmail.com


Post a Comment

0 Comments