Ticker

6/recent/ticker-posts

রাজা হন আর প্রজা, উপকার করলে উপকার পাবেন | motivational story in Bengali | Positive Stories

রাজা হন আর প্রজা, উপকার করলে উপকার পাবেন | motivational story in Bengali | Positive Stories


কোন এক মহান ব্যাক্তি বলেছিলেন - মানুষের কখনো হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। কারণ পাহাড় থেকে বয়ে আসা নদী আজ অব্দি কাউকে প্রশ্ন করেনি যে সমুদ্র কত দূরে।


Motivational story in Bengali

আজকের গল্পটা হল এমন একটি ছেলের যে চাকরি খুঁজে বেড়াচ্ছিল। সেই রাজ্যের সেনাপতি ছিল ছেলেটির বন্ধু। ছেলেটি চেয়েছিল সেনাপতিকে ধরে রাজদরবারে একটা চাকরি পাবার জন্য। কিন্তু বন্ধুকে চাকরির কথা বলবে এটা ভেবে সে দ্বিধা বোধ করছিল।

তো প্রথমে নিজেই অনেক চেষ্টা চরিত্র করল চাকরি পাওয়ার। কিন্তু কিছুতেই কোন জায়গায় চাকরি পেল না। ফলে সে এবার বাধ্য হয়ে তার বন্ধু সেনাপতির কাছে গিয়ে হাজির হল এবং বলল - তুমি আমাকে রাজদরবারে একটা চাকরি করার বন্দবস্ত করে দাও।

সেনাপতি প্রশ্ন করল - তুমি কি কাজ জানো?

ছেলেটি বলল - আমি অনেক ধরনের কাজই অল্প বিস্তর জানি। কিন্তু কোন ব্যাপারে আমার কোনো পারদর্শিতা নেই।

motivational story in bengali
motivational story in bengali 

সেনাপতি বলল - তাহলে তুমি এখানে কাজ কিভাবে পাবে? তারপর বলল - ঠিক আছে যখন তুমি বললে, তো চল রাজার সাথে একবার কথা বলে চেষ্টা করে দেখি।

দুজন গিয়ে রাজার কাছে উপস্থিত হলো। রাজা সব শুনে ছেলেটিকে সেই একই প্রশ্ন করল - কোন বিষয়ের উপর তোমার পারদর্শিতা আছে?

ছেলেটি বলল - রাজামশাই সেরকম ভাবে কোন জিনিসের উপর আমার পারদর্শিতা নেই। কিন্তু আমি সব ধরনের কাজে অল্পবিস্তর করতে পারি। কোন কাজ আমাকে দিলে আমি সেই কাজটা সুন্দর পরিচালনা করতে পারি। আর কোন কাজ শেষ না হওয়া অবধি আমি ছাড়ি না।

রাজামশাই বললেন - ঠিক আছে তুমি থাকো, দেখি তোমাকে দিয়ে কি কাজ করানো যায়।

ছেলেটি রাজদরবারে কাজ পেলেও, প্রথমে তাকে কোনো কাজ দেওয়া হল না। তাকে শুধু বলা হলো তুমি শুধু ঘুরে ঘুরে দেখো কোথায় কি কাজ হচ্ছে। সে রাজদরবারে আসত যেতো, ছোটখাটো কোনো কাজ হলে করত। এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ বা কঠিন কাজ তাকে দেওয়া হতো না।

কিছুদিন এইভাবে যাওয়ার পর ছেলেটিকে রাজার একটা কাজের জন্য দরকার হয়ে পড়ল। সেই রাজ্যের একটি গ্রামে খাজনা বাকি পরে ছিল। রাজা ভাবলেন এই ছেলেটিকে সেই গ্রামে খাজনা আদায়ের জন্য পাঠাবেন। তো তিনি ছেলেটিকে ডেকে পাঠালেন।

ছেলেটি এলে পরে রাজামশাই বললেন - ওই দুর পাহাড়ের নিচে একটি গ্রাম আছে। সেই গ্রামের মানুষের কাছে খাজনা আদায় করা বাকি আছে। তোমার যাওয়ার সব বন্দোবস্ত করে রেখেছি। তুমি এই কাগজপত্রগুলো নিয়ে যাও এবং তাদের কাছ থেকে সব খাজনা আদায় করে নিয়ে এসো। ব্যাস এইটুকু কাজ প্রথমে তোমাকে দেওয়া হল।

ছেলেটি বলল - ঠিক আছে আমি যাচ্ছি। কিন্তু একটা কথা বলুন আমি যখন ফিরে আসবো তখন আপনার জন্য কি উপহার নিয়ে আসব?

রাজামশাই বললেন - তুমি আমার জন্য আর কি উপহার আনবে? ঠিক আছে তুমি যখন বলছ, তুমি তো এই রাজমহল পুর ঘুরে দেখেছ। তোমার যদি কিছু মনে হয়ে থাকে যেটা এই রাজমহলে নেই, সেটাই তুমি নিয়ে আমার জন্য এস। কথাটা বলে রাজামশাই হাসতে লাগলেন।

রাজার কথাটা ছেলেটির মাথায় বসে গেল যে, এই রাজমহলে যে জিনিস নেই সেটা তাকে নিয়ে আসতে হবে। তো ছেলেটি ঘোড়ায় চড়ে সেই গ্রামের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেল। প্রায় সারাদিন ঘোড়া চালিয়ে ছেলেটি পাহাড়ের নিচে সেই গ্রামে গিয়ে পৌঁছলো।

গ্রামে পৌঁছে ছেলেটি সমস্ত গ্রামবাসীকে এক জায়গায় ডেকে পাঠাল। গ্রামবাসীরা এসে পড়লে ছেলেটি বলল - দেখুন রাজামশাই আমাকে পাঠিয়েছেন। রাজামশাই এর আদেশ, আপনাদের যে খাজনা বাকি পরে আছে তা এবার পরিশোধ করে দিতে হবে। ছেলেটি কাগজপত্র গুলো বার করে পড়তে শুরু করল কার কার কত খাজনা বাকি আছে।

বেচারা গ্রামবাসীরা যারা সেখানে উপস্থিত ছিল, প্রত্যেকে কাঁদ কাঁদ অবস্থায় মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে ছিল। কেউ কোন উত্তর দিচ্ছিল না। কারণ তাদের কাছে ঠিকমত দু'বেলা খাওয়ার পয়সা নেই। তারা খাজনা দেবে কোথা থেকে। এই বছর ফসল ও ভালো হয়নি। তো তারা বুঝতে পারছিল না কিভাবে বলবে, যে তাদের কাছে পয়সা নেই। তো তারা চুপচাপ দাঁড়িয়েই রইলো।

ছেলেটি অবস্তা দেখে বুঝতে পারল যে এই গ্রামবাসীদের কাছে রাজার খাজনা পরিশোধ করার জন্য কোন টাকা পয়সা নেই। তো ছেলেটি বলল - দেখুন, আপনারা চিন্তা করবেন না। আপনাদের খাজনা যার যা বকেয়া আছে সব ভুলে যান। আপনাদের রাজামশাইকে কোন খাজনা দিতে হবে না।

কথাটা শোনার পরে গ্রামবাসীরা হতভম্ব হয়ে গেল। তারা ভাবছিল আমরা কি ভুল শুনলাম যে আমাদের আর খাজনা দিতে হবে না। রাজামশাই কি আমাদের খাজনা মাফ করে দিলেন? তারপর তাদের মাথায় আসল কাগজপত্র তো সব রয়ে গেছে যেখানে আমাদের আঙ্গুলের ছাপ দেওয়া আছে। রাজামশাই হয়ত কাগজপত্রগুলো কে নিয়ে অন্যদিন অন্য কাউকে পাঠাবেন। তো এইসব কথাবার্তা তাদের মাথায় ঘুরছিল।

ছেলেটি এই সব বুঝে এবার কাগজপত্রগুলো নিয়ে আগুন ধরিয়ে দিল। সেই কাগজপত্রগুলো আগুনে পুড়ে খাক হয়ে গেল যাতে গ্রামবাসীদের আঙ্গুলের ছাপ ছিল। ঘটনাটা দেখে গ্রামবাসীরা আনন্দে নেচে উঠলো, তাদের মন খুশিতে ভরে গেল। তারা বলতে লাগল রাজামশাই সত্যি সত্যি আমাদের ঋণ মুকুব করে দিলেন।

তারপরে সব গ্রামবাসী হাতজোড় করে ছেলেটিকে বলল - রাজামশাই কে বলবেন আমাদের প্রত্যেকের অনন্ত ভালোবাসা এবং উনি যাতে দীর্ঘজীবী হোন তার জন্য অসংখ্য প্রার্থনা আমরা করলাম। ছেলেটি সেখান থেকে বিদায় নিয়ে রাজমহলে এসে পৌঁছল।

রাজমহলে পৌঁছে ছেলেটি বলল - রাজামশাই গ্রামবাসীরা আপনাকে খাজনা দিতে পারেননি। তাদের কাছে খাজনা দেওয়ার জন্য কোন পয়সা নেই।

রাজামশাই বললেন - তুমি কি পাগল হয়ে গেছো? তুমি খাজনা আদায় করে নিয়ে আসনি?

ছেলেটি বলল - রাজামশাই আপনি বলেছিলেন না যে এই রাজমহলে যে জিনিসটা নেই সেটা আপনার জন্য নিয়ে আসতে। আমি গ্রামবাসীদের কাছ থেকে পয়সার বদলে সেই জিনিসটা নিয়ে এসেছি।

রাজামশাই বললেন - কোন জিনিসটা নেই?

ছেলেটি বলল - প্রার্থনা নেই, ভালোবাসা নেই, আশীর্বাদ নেই। ব্যাস গ্রামবাসীদের কাছ থেকে আমি এগুলো নিয়ে এসেছি আপনার জন্য।

রাজা ছিলেন বুদ্ধিমান এবং অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন। তো তিনি কথাটা শুনে চুপ করে গেলেন। ছেলেটিকে আর কিছুই বললেন না।

কিছুদিন বাদে অন্যান্য রাজ্যের রাজারা মিলি এই রাজ্য কে আক্রমণ করে। আক্রমণ এতটাই ভয়ঙ্কর ছিল এই রাজা কে পরিবার নিয়ে পালিয়ে যেতে হয়। এই ছেলেটিও সঙ্গে ছিল।

ছেলেটি বলল - রাজামশাই আপনাকে একটা উত্তম জায়গায় খোঁজ দিতে পারি, যেখানে আপনি আপনার পরিবার নিয়ে নির্ভয়ে লুকিয়ে থাকতে পারেন। আমার সঙ্গে চলুন পাহাড়ের নীচে সেই গ্রামে। সেই গ্রামবাসীরা তাদের জীবন দিয়ে আপনাকে রক্ষা করবে।

সেখানে সেই গ্রামে সন্দেশ পাঠানো হলো যে রাজামশাই উনার পরিবার নিয়ে এই গ্রামে আসছেন। ছেলেটি রাজামশাই এবং উনার পরিবারকে নিয়ে সেই গ্রামে পৌছল। গ্রামবাসীরা সবাই মিলে রাজামশাইকে স্বাগত জানালো। এবং যতদিন না পর্যন্ত সবকিছু থেমে যায় সমস্ত গ্রামবাসী মিলে রাজামশাই এবং উনার পরিবারকে সুরক্ষা করলেন।

এরপরে রাজা আবার তার শক্তি ফিরে পেলেন এবং উনার রাজ্যতে ফিরে গেলেন। গ্রামবাসীদের সেই আশীর্বাদ সেই প্রার্থনা সেগুলিই ফিরে আসল যার ফলে রাজামশাই তার পরিবারকে নিয়ে সুরক্ষিত ছিলেন।

গৌতম বুদ্ধের গভীর ঘুমের রহস্য | ঘুমানোর সঠিক উপায় | gautam buddha story in bengali | inspirational story

Inspirational story in Bengali

আপনি যদি জীবনে কোনো ভালো কাজ করে থাকেন, তো আপনার জন্য ভালোই হবে। মনে রাখবেন আপনি রাজা হন বা প্রজা উপকার করলে উপকার পাবেন। তাই বলব প্রার্থনা পাওয়ার চেষ্টা করুন, ভালোবাসা পাওয়ার চেষ্টা করুন, আশীর্বাদপাওয়ার চেষ্টা করুন। কারণ আশীর্বাদ এর শক্তি অপরিসীম।

আপনারা শুনেছেন চমৎকার ঘটে যায়। আর এই চমৎকার সেই আশীর্বাদ এর কারনে, মানুষের ভালবাসার কারণে, মানুষের প্রার্থনার কারণে ঘটে যায়।

তো বন্ধু এমন কাজ করুন যা পুরো দুনিয়া আপনার মত করতে চায়, কারণ জিতবে তারাই যারা কিছু করে দেখাবে।


বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ

‘Freedoms Today’ নামে আমাদের আরেকটি YouTube channel আছে। যেখানে আমরা Network marketing-এর সম্বন্ধে ভিডিও বানিয়ে থাকি। আপনি যদি Network marketing-এর সম্বন্ধে জানতে চান এবং Network marketing শিখতে চান তো এই channel টি follow করতে পারেন। এবং আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে আপনি আমাদের website visit করতে পারেন।


Freedoms Today Website: http://www.freedomstoday.com/

Freedoms Today YouTube channel: https://www.youtube.com/FreedomsToday

Email: freedomstoday1@gmail.com


Post a Comment

0 Comments