Ticker

6/recent/ticker-posts

এই গল্পটি শুনার পর আপনি জীবনে হার মানা ছেড়ে দেবেন| Inspirational Story in Bengali | Positive Stories

এই গল্পটি শুনার পর আপনি জীবনে হার মানা ছেড়ে দেবেন| Inspirational Story in Bengali | Positive Stories


থমাস এডিশন বলেছিলেন - বহু এমন মানুষ আছেন যারা জীবনে শেষ মুহূর্তে এসে ব্যর্থ হয়, কারন তারা হাল ছেড়ে দেওয়ার সময় বুঝতে পারেনি যে তারা সাফল্যের কত কাছাকাছি ছিল।


Inspirational story in bengali

আজকের গল্পটি হলো দুটি ব্যাঙ কে নিয়ে। যার মধ্যে একজন মোটা আর একজন ছিল রোগা। দুজনে জঙ্গলের মধ্যে একটি ছোট্ট পুকুরে বসবাস করত। দুজনে ছিল ছোটবেলার বন্ধু এবং তারা একসাথে খেলাধুলা করে বড় হয়েছে। দুজনে মিলে সারাদিন পুকুরে লাফালাফি করতো গল্প করতো এবং মস্তি করে বেড়াত।

তারা দুজনেই পুকুরের আশে পাশের এলাকায় নতুন নতুন জায়গায় ঘুরতে ভালবাসত। তো একদিন এইভাবেই ঘুরতে ঘুরতে তারা জংলের থেকে বেরিয়ে এক ক্ষেতের সামনে এসে পৌছল। সেখানে গিয়ে তারা দেখল এক গোয়ালা তার গাভীর দুধু দোয়াচ্ছে। তারা কোনদিন কাউকে এভাবে দুধ দোয়াতে দেখেনি।

motivational story in bengali
motivational story in bengali

গোয়ালা দুধ দোয়া হলে পরে একটি বড় বালতিতে তা ঢেলে রাখল। ব্যাঙ দুটি এই দুধ দেখে ভীষণ আশ্চর্য হয়ে গেল, কারণ তারা আজকের আগে এটা কোনদিন দেখেনি। আজ অবধি তারা জঙ্গলের পুকুরে কেবল নোংরা জলেই দেখেছে। তো কিছুক্ষণ ভাবার পর তারা নির্ণয় নিল এই সাদা জলে সাঁতার কাটার মজাই আলাদা হবে, ফলে তারা দুজনেই একসাথে সেই দুধের বালতি লাফিয়ে পড়ল।

দুধের বালতিতে পড়ে তারা দেখল, আরে বাঃ সাদা জল, এটা আবার কি জিনিস? আমরা তো এ কোনদিন দেখিইনি। দুজনে তো আনন্দ করতে ভালোবাসোতোই, ফলে তারা সেখানে আনন্দে মেতে উঠলো। কখনো সাঁতার কাটছে, কখনো ডুব দিচ্ছে, ডুব দিয়ে আবার উঠে আসছে।

তো অনেক লাফালাফি এবং আনন্দ করার পর মোটা ব্যাঙটি এবার বলল - চল বন্ধু এবার ঘরে যাওয়ার সময় হয়েছে, আমারা আবার জঙ্গলে ফিরে যাই। রোগা ব্যাঙটিও বলল - হ্যাঁ বন্ধু, চল আমরা ঘরে ফিরে যাই। এবার দুজনে বালতির বাইরে লাফিয়ে পড়ার চেষ্টা করলো। কিন্তু বালতিটা অনেক বড় হওয়ার কারণে তারা বাইরে লাফ দিতে পারল না।

তারা বালতির একধার গিয়ে বালতির গা বেয়ে ওঠার চেষ্টা করল। কিন্তু তারা দেখল বালতির গা ভীষন পিছল। ফলে তারা যখনই লাফ দেওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের পা পিছলে যাচ্ছে। তারা বার বার লাফানোর প্রচেষ্টা করে যাচ্ছিল। কখনো বালতির মাঝখান থেকে, কখনো বালতির এক ধারে থেকে। কিন্তু দুধের মসৃণতা এবং পিছল হওয়ার কারণে বালতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারছিল না।

এবার রোগা ব্যাঙটি মোটা ব্যাঙটিকে বলল - যে করেই হোক আমাদের এই বালতি থকে বের হতেই হবে। এই কারণে আমাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। কিন্তু আমরা অনেকবার চেষ্টা করে দেখেছি, আমরা নিজেরা এই বালতি থেকে বার হতে পারব না। কারন এখানে ভীষন পিছল আছে। তো চল আমারা এক কাজ করি, আমরা সাঁতার কাটতে থাকি।

আমরা যদি সাঁতার কাটতে থাকি এক সময় কেউ না কেউ এসে আমাদের বাইরে ঠিক বার করেই দেবে। মোটা ব্যাঙটি রোগা ব্যাঙটির কথা মেনে নয় এবং দুজনে একসাথে সাঁতার কাটতে থাকে। এইভাবে এক ঘন্টা, দু ঘন্টা, তিন ঘন্টা ধরে তারা সমানে সাঁতার কাটতে থাকে। কিন্তু কেউ এসে তাদের বালতি থেকে বার করলো না।

এবার যে মোটা ব্যাঙটি ছিল সে সাঁতার কাটতে কাটতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এবং রোগা ব্যাঙটিকে বলে - ভাই, আমি আর পা চালাতে পাচ্ছিনা। কয়েক ঘন্টা ধরে সাঁতার কাটতে কাটতে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।

রোগা ব্যাঙটি বলল - দেখ ভাই তুই যদি পা চালানো বন্ধ করে দিস, তো তুই ডুবে যাবি। এবং কিছুক্ষণের মধ্যে শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে আসবে এবং তুই মরে যাবি। আমরা মরতে চাই না। তোর যত কষ্টই হোক পা চালাতে থাক।

মোটা ব্যাঙটি আরও কিছুক্ষণ ধরে সাঁতার কাটলো তারপর বলল - দেখ ভাই, আমরা দুজন দুজনকে অনেক সঙ্গ দিয়েছি। আমরা দুজনে ছোটবেলার বন্ধু। একসাথে আমরা অনেক আনন্দ মস্তি করেছি। লম্ফঝম্প করেছি, ঘুরে ঘুরে বেরিয়েছি। আমরা সবসময় একসাথে ছিলাম। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে আজ এসব শেষ হতে বসেছে।

আজ হতে পারে আমার জীবনে এটা শেষ দিন। আমি আর পরিশ্রম করতে পারছিনা। আমি আর পা চালাতে পাচ্ছিনা। হয়তো আমি এবার ডুবে মরে যাব। তো সত্যি সত্যি কিছুক্ষণ পরে রোগা ব্যাঙটির চোখের সামনে তার ছোটবেলার বন্ধু ডুবে মরে গেল।

এইসব দেখে রোগা ব্যাঙটি আরো জোরে পা চালাতে থাকে। কারন তার ভেতর আগুন লেগে গেছে, যে করেই হোক এই বালতি থেকে আমাকে বের হয়ে আসতেই হবে। আমি কিছুতেই হার মানবো না। আমি যদি হার মেনে নিই তাহলে আমারও মৃত্যু ঘটবে। তার চোখ থেকে অঝোরে জল পড়ছিল। তাসত্ত্বেও সে প্রানপনে আরো জোরে আরো জোরে পা চালাতে লাগলো।

এবার আমরা জানি দুধকে যদি অনেকক্ষণ ধরে ঘুটতে থাকা হয় তাহলে তার থেকে মাখন বেরিয়ে আসতে থাকে। এখানেও সেই একই ঘটনা ঘটল। যেহেতু ব্যাঙ দুটি অনেকক্ষণ ধরে সেই দুধের মধ্যে পা দাপাদাপি করে সাঁতার কাটছিল, তো দুধ থেকে মাখন বের হয়ে আসতে লাগলো। তার সাথে অনেকক্ষণ ধরে দুধ থেকে যাওয়ার কারণে দুধ জমতে থাকল। দই এর আকার ধারণ করল।

দুধের জমে যাওয়া এবং মাখন বেরিয়ে আসার কারনে রোগা ব্যাঙটি দেখলো দুধ একটু গাঢ় হয়ে এসেছে। এখন সেটা আর আগের মত মসৃন নেই। এবার যে মাখন সৃষ্টি হয়েছিল, রোগা ব্যাঙটি তার উপর উঠে জোরে এক হাফ দিল এবং বালতির বাইরে এসে পড়ল। বালতি থেকে বেরিয়ে এসে কিছুক্ষণ সে কিছুই বুঝতে পারছিল না যে তার সঙ্গে আজকে কি ঘটেছে।

তার সবথেকে কাছের বন্ধু, তার ছোটবেলার বন্ধু, আজ তার চোখের সামনেই ডুবে মৃত্যুবরণ করেছে। এবং তার মৃত্যু কি কারণে হয়েছিল? কারণ সে হার মেনে নিয়েছিল। যদি সে আরও কিছুক্ষণ ধরে তার পা চালাতে সক্ষম হতো, হার মেনে না নিত তাহলে সেও বালতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারতো এবং এখনোও বেঁচে থাকত। যাইহোক রোগা ব্যাঙটি ধীরে ধীরে জঙ্গলে ফিরে গেল।

রাজা হন আর প্রজা, উপকার করলে উপকার পাবেন | motivational story in Bengali | Positive Stories

Motivational story in Bengali

দুধ থেকে মাখন বা দই অবশ্যই তৈরি হবে। কিন্তু তার জন্য সময় দিতে লাগবে। যদি আমরা সময়ের আগে হার মেনে নিই তাহলে আমাদের অবস্থা সেই মোটা ব্যাঙটির মত হবে। হতে পারে আমরা জীবনে সেসব এখনো পাইনি যা আমাদের স্বপ্ন, যা আমাদের চাহিদা। কিন্তু জীবনে তারাই স্বপ্ন পূরণ করতে পারে যারা কখনো হার মানে না।

হতে পারে আমরা হয়ত সেই সব জিনিস পাবো না যা যা আমাদের চাহিদা। কিন্তু আমাদের সেই শান্তি কে কেড়ে নেবে, যেখানে আমরা সেই জিনিসটাকে পাওয়ার জন্য শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছি। একটা কথা মনে রাখবেন - আমরা তখন হেরে যাই না যখন কেউ আমাদের বলে যে তুমি পারবে না। কিন্তু আমরা তখন হেরে যাই যখন আমরা নিজেরাই হার মেনে নিই।

তাই আমি বলবো - জীবনে কখনো হার মানবেন না। উপরওয়ালার উপর বিশ্বাস রেখে, এবং নিজের পরিবারের ভালোবাসা সাথে সমানে এগিয়ে যান। আর এমন কাজ করুন যা পুরো দুনিয়া আপনার মত করতে চায়, কারণ জিতবে তারাই যারা কিছু করে দেখাবে।

Think positive - Talk positive - Feel positive

শিক্ষাই আপনার জীবনের পথ | 20 best education quotes in Bengali | student motivation


বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ

‘Freedoms Today’ নামে আমাদের আরেকটি YouTube channel আছে। যেখানে আমরা Network marketing-এর সম্বন্ধে ভিডিও বানিয়ে থাকি। আপনি যদি Network marketing-এর সম্বন্ধে জানতে চান এবং Network marketing শিখতে চান তো এই channel টি follow করতে পারেন। এবং আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে আপনি আমাদের website visit করতে পারেন।

Freedoms Today Website: http://www.freedomstoday.com/

Freedoms Today YouTube channel: https://www.youtube.com/FreedomsToday

Email: freedomstoday1@gmail.com



Post a Comment

0 Comments