Short Motivational Story | একে অপরকে পরখ না করে বোঝার চেষ্টা করুণ | Motivational bangla golpo

Short Motivational Story | একে অপরকে পরখ না করে বোঝার চেষ্টা করুণ | Motivational bangla golpo


একে অপরকে পরীক্ষা না করে, বোঝার চেষ্টা করুন। সত্যই তার জন্য দরকার একটি ব্রীজ। তো এই গল্পটি আপনার মনে আজ একটি নতুন চিন্তাধারা এনে দেবে।

motivational stories, positive bangla golpo, positive stories bangla, life changing stories
Short motivational story - Bridge 

আজকের গল্প ‘ব্রীজ’।

একটি গ্রামে দুই ভাই থাকত। বড়ভাই এর নাম ছিল গোপাল, এবং ছোট ভাইয়ের নাম ছিল ভুপাল। দুই ভাইয়ের মধ্যে দারুন সৎভাব ছিল।

তাদের বেশ কিছু চাষী জমিও ছিল। পিতা মারা যাবার পর তারা দুইভাই একসাথে সেই জমিতে চাষাবাদ করত এবং যা ফসল হত তারা নিজেদের মধ্যে সমান সমান ভাগ করে নিত। এই ভাবেই তারা খুশী খুশী তাদের পরিবার নিয়ে জীবন অতিবাহিত করছিল।

কিন্তু একদিন ছোট্ট একটি ব্যাপার নিয়ে তাদের মধ্যে মন কষাকষি হয় এবং এই ছোট ব্যাপারটা বাড়তে বাড়তে ধীরে ধীরে একদিন বিশাল আকার ধারন করে। আর সেটা এতটাই বাড়াবাড়ি পর্জায়ে পৌঁছায়, তারা একে অপরের শত্রুতে পরিনত হয়।

ফলে তারা তাদের বাড়ির আসবাপত্র থেকে শুধু করে চাষী জমিও দুইভাগে ভাগ করে নেয়, যেখানে তারা একসময় দুজেনে একসাথে কাজ করত। পরিস্তিস্থি এমন জায়গায় গিয়ে পৌঁছায় যেখানে ত্রিশ বছর ধরে একসাথে হাসতে খেলতে তারা বড় হয়েছে, সেখানে এক অপরের মুখ দেখাতো দুরে থাক তারা একে অপরের ছায়াও মারাত না। এই ভাবে বেশ কিছু দিন অতিবাহিত হয়ে গেল।

একদিন কিছু কাজ পাবার আসায় এক কাঠমিস্ত্রী আসে বড়ভাই গোপালের কাছে। গোপাল সেই কাঠমিস্ত্রীকে নিয়ে তার জমিতে পৌছায়।

গোপাল বলল - কোন একসময় এই জমিতে আমি এবং আমার ভাই ভূপাল একসাথে কাজ করতাম। কিন্তু আমাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদের ফলে আজ এই জমি দুই ভাগে বিভক্ত। আর আজ আমার ভাইয়ের কত হিম্মত দেখ, সে বুলডোজার দিয়ে এই জমির মাঝে একটি খাদ কেটে দিয়েছে। যাতে তার জমি থেকে বয়ে আসা জল আমার জমিতে না আসে।

এই কারনে আমার ছোট ভাইয়ের প্রতি আমার মনে এতটাই বিদ্বেশ জন্মেছে যে আমি তার চেহারাও দেখতে চাই না। তাই তোমার কাজ হল, আমার জমির চারপাশে কাঠ দিয়ে অনেক উচু করে পাঁচিল দিয়ে দাও। যাতে তার চেহারা আমাকে দেখতে না হয়।

এটা শুনে কাঠমিস্ত্রী বলল – ঠিক আছে মালিক কাজ হয়ে যাবে। কিন্তু আমার কিছু জিনিস পত্রের দরকার আছে।

গোপাল বলল – তোমার যা জিনিস লাগবে তুমি আমার মুনিমকে বলবে। তিনি তোমাকে সব ব্যবস্থা করে দেবেন। কারন আমাকে কিছুদিনের জন্য শহরে যেতে হবে।

এরপর গোপাল শহরে চলে গেলে এবং কাঠমিস্ত্রীও তার কাজে লেগে গেল।

কিছুদিন পর যখন গোপাল শহর থেকে ফিরল, সে ভাবল যাই একবার জমিতে গিয়ে দেখি কাঠমিস্ত্রী তার কাজ কতদূর এগোল।

কিন্তু যখন গোপাল জমিতে পৌছাল তখন সে সেখানকার অবস্থা দেখে অবাক হয়ে হয়ে গেল। কারন যে খাদের চারপাশে কাঠের পাঁচিল করার কাজ সে কাঠমিস্ত্রীকে দিয়েছিল, কাঠমিস্ত্রী তার জায়গায় সেই খাদের উপর একটা ব্রীজ বানিয়ে দিয়েছে।

গোপাল তাড়াতাড়ি কাঠমিস্ত্রীর কাছে পৌঁছায়। ততক্ষনে সে ব্রীজের কাজ প্রায় সম্পন্ন করে এনেছে। গোপাল কে দেখে কাঠমিস্ত্রী কাজ ছেড়ে তাকে অভিবাদব জানাল।

এবার গোপাল যখনই কাঠমিস্ত্রীকে কিছু বলতে যাবে, তখন দেখল তার ছোট ভাই ভূপাল ব্রীজ পার করে দৌড়ে তার কাছে আসছে। এবং কাছে এসে তাকে প্রনাম করে কাঁদতে কাঁদতে বলল - আমাকে ক্ষমা করে দাও দাদা। আমি তোমাকে বুঝতে ভুল করেছি। আমি জানতাম না তোমার মন এত বড়।

ছোট ভাইয়ের মুখে এই কথা শুনে বড়ভাই গোপালেরও মন ভরে গেল। সে ছোট ভাইকে জোড়িয়ে ধরল, এবং এর কারন জানতে চাইল।

ভুপাল কাঁদ কাঁদ চোখে বলল – আমি তোমার সাথে ঝগড়া করেছি, বাড়ি ভাগা ভাগি করেছি, জমি ভাগাভাগি করেছি এবং শুধু তাই নয় জমিতে খাদ কেটে দিয়েছি।

কিন্তু তুমি আমার সব কিছুকে নির্দোষ ভেবে কিছুতে পাত্তা না দিয়ে সেই খাদের উপর ব্রীজ তৈরী করে দিলে। মুর্খ তো আমি, যে তোমার মহানতা আমি বুঝতে পারি নি। আমাকে ক্ষমা করে দাও দাদা।

দাদা ভাই দুজনের অশ্রু জলে ভেসে গেল যত ক্ষোভ, যত বিদ্বেষ। যখন তারা নিজেদের সামলে উঠেলেন, তখন গোপালের মনে পড়ল কাঠমিস্ত্রীর কথা। দেখল কাঠমিস্ত্রী হাটতে হাটতে চলে যাচ্ছে।

গোপাল কাঠমিস্ত্রীকে আওয়াজ দিলেন - ভাই তুমি কোথায় যাচ্ছ?

কাঠমিস্ত্রী বলল – আমার কাজ শেষ মালিক।

গোপাল বলল - আমার কাছে আরো কাজ আছে। তুমি থেকে যাও।

কাঠমিস্ত্রী বলল – মালিক আমি অবশ্যই থাকতাম, কিন্তু আমাকে আরো অনেক এরকম ব্রীজ বানাতে হবে। এই বলে কাঠমিস্ত্রী সেখান থেকে বিদায় নিলেন।

এই গল্পটি থেকে আমরা কি শিখতে পাই

তো বন্ধু, এটাই হল আমাদের জীবনের দর্শন। যদি আমাদের আগে এগোতে হয়, তো আমাদের একসাথে থাকতে হবে। এবং একসাথে থাকার জন্য এরকম ব্রীজের দরকার হবে, খাদের নয়।

তাই আমি বলব, কোন বিদ্বেষ নয়, কোন ভুল বোঝা বুঝি নয় এবং একাও নয়, একসাথে উঠার চেষ্টা করুন। আপনি অবশ্যই শিখরে পৌছাবেন। কারণ জিতবে তারাই যারা কিছু করে দেখাবে।

ইতিবাচক ভাবুন – ইতিবাচক বলুন – ইতিবাচক অনুভব করুন

Short Motivational Story | জীবনে আমরা অনেক কিছু জেনেও, না জানার ভান করে থাকি | Motivational bangla golpo


বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ

‘Freedoms Today’ নামে আমাদের আরেকটি YouTube channel আছে। যেখানে আমরা Network marketing-এর সম্বন্ধে ভিডিও বানিয়ে থাকি। আপনি যদি Network marketing-এর সম্বন্ধে জানতে চান এবং Network marketing শিখতে চান তো এই channel টি follow করতে পারেন। এবং আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে আপনি আমাদের website visit করতে পারেন।

Freedoms Today Website: http://www.freedomstoday.com/

Freedoms Today YouTube channel: https://www.youtube.com/FreedomsToday

Email: freedomstoday1@gmail.com

Comments

Post a Comment