Short Motivational Story | ভাল মানুষেরই জীবনে বেশী দুঃখ কষ্ট কেন ভোগ করে | Motivational bangla golpo

Short Motivational Story | ভাল মানুষেরই জীবনে বেশী দুঃখ কষ্ট কেন ভোগ করে | Motivational bangla golpo


যখনই আমাদের সাথে জীবনে খারাপ কিছু ঘটে, আমারা বেশির ভাগ সময় এটাই ভাবতে বসে যাই যে এই খারাপগুলি আমার সাথেই কেন ঘটছে? আমি এত হতভাগ্য কেন? আমরা নিজেরাই নিজেদের অকারনে দোষারোপ করতে থাকি।

কখনো কখনো ভগবানের উপর প্রশ্চন্ড রেগে যাই, নিজের উপরে অন্যের উপরেও রাগ হয়। মনে মনে ভাবতে থাকি আমি তো কোনদিন খারাপ কিছু করি নি, কোনদিন কারো কোন ক্ষতি চাইনি, তাহলে ভগবান কেন আমার সাথেই এরকম ব্যবহার করছেন?

positive stories bangla, motivational stories, life changing stories
Short motivational stories - More sadnedd

এক ভগবান ভক্ত ব্যবসায়ির গল্প

একবার এক ব্যবসায়ী যে কিনা ভগাবানের খুব ভক্ত ছিল। তিনি কোনদিন কারও সাথে কোন খারাপ ব্যবহার করেননি। কোনদিন কাউকে দুঃখ দেন নি। তিনি প্রতিদিন কাজে যাবার আগে মন্দিরে গিয়ে ভগবানের দর্শন করতেন, প্রার্থনা করতেন তারপর কাজে যেতেন। এই ব্যবসায়ীর আসে পাশে থাকা সকল মানুষ উনাকে খুবই পছন্দ করতেন এবং উনার নাম, সম্মান ছিল শহর জুড়ে।

অপর দিকে খুপ খারাপ এবং অসভ্য এজকন লোক ছিল। সেও ঠিক একই সময় ভগবানের মন্দিরে যেত, ঠিক যখন এই ব্যবসায়ী মন্দিরে যেতেন। কিন্তু মন্দিরে এসে সে সবার সাথে এবং তার চারপাশে থাকা জন্তু জানোয়ারদের সাথেও খারাপ ব্যবহার করত, তাদের কষ্ট দিত।

জন্তু জানোয়ারদের গায়ে পাথর ছুড়ে মেরে তাদের বিরক্ত করত, আহত করত। তাছাড়াও লোকটি রোজ জুয়া খেলত এবং মদ্যপান করা ছিল তার কাছে daily রুটিন।

যেখানে ব্যবসায়ী টির জীবনের মন্ত্র ছিল সকাল সকাল উঠে মন্দিরে যাওয়া, এবং ভগবানের নাম নিয়ে দিন শুরু করা।

সেখানে অসভ্য নীচ লোকটির জীবনের মন্ত্র ছিল সকাল সকাল উঠে মন্দিরে যাওয়া, এবং খালি পায়ে গিয়ে জুত চুরী করা।

এই নীচ লোকটি মন্দিরে গিয়েও চুরী করার সুযোগ ছাড়ত না। মন্দিরের বাইরে থাকা দর্শনার্থীদের জুত নিয়ে সে চম্পট দিত।

একদিন খুব বৃষ্টি হচ্ছিল। তখন সেই অসভ্য নীচ লোকটি মন্দিরে আসে, এবং এসে দেখে সেখানে কেউ নেই। এই সুযোগে সে ঠাকুরমশাইকে ফাঁকি দিয়ে প্রণামীর সব পয়সা নিয়ে পালিয়ে যায়।

বৃষ্টি থামার পরে পরেই সেই ব্যবসায়ীও মন্দিরে আসে, এবং অন্যান্য মানুষেরাও মন্দিরে আসতে থাকে। এবং যখন এই টাকা চুরীর ব্যবপারাটা জানাজানি হয়, সবাই এই ব্যবসায়ীর উপরেই টাকা চুরির অভিযোগ আনে।

মানুষেরা সেই ব্যবসায়ীকে খুব অপমান করেন। কেউ কেউ বলল শাস্তি দিন, কেউ কেউ বলল পুলিশে দিয়ে দিন। কেউ কেউ বলল জামা কাপড় দেখে তো মনে হয় না ইনি চুরি করতে পারে। আবার চুরি কিনা মন্দিরের মত পবিত্র স্থানে! লজ্জা হওয়া উচিত এসব পাপী লোকের।

অনেক কাকুতি মিনতি করার পর ব্যবসায়ীটি কোনমতে সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে বাইরে এল। এই ঘটনার পর তিনি একটু অন্যমণস্ক হয়েই রাস্তা দিয়ে হাটছিলেন।

তখন একটি গাড়ি তাকে এসে সজোরে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায়। ধাক্কা খেয়ে ভোদ্রলোক পড়ে যায়। সেরকম একটি ক্ষতি না হলেও অল্প বিস্তর আঘাত পান।

এবার এই ধাক্কা মারার সময় সেই গাড়ি থেকে একটি ব্যাগ বাইরে মাটিতে পড়ে যায়। গাড়ির মানুষেরা ভয়ে ব্যাগটা সেখান থেকে না নিয়েই চলে যায়, কারন তখন তারা পালাবার চেষ্টায় ছিল।

সেই নীচ লোকটি কিছু দূর দাঁড়িয়ে সব লক্ষ করছিল। যেই সে ব্যাগটি পড়ে যেতে দেখল, দৌড়ে এসে সে ব্যাগটা কুড়িয়ে নিল। ব্যাগটা খুল দেখল তাতে অনেক টাকা, তার হোঁশ উড়ে গেল।

খুশীতে আনন্দে সে নেচে উঠল। মনে মনে বলতে থাকল, আজ যে কার মুখ দেখে উঠেছি! আমার তো আজ লটারি লেগে গেল, আমি মালামাল হয়ে গেলাম।

এই ঘটনাটাও সেই ব্যবসায়ী প্রত্যক্ষ করলেন। তিনি মনে মনে অনেক কিছু ভাবলেন এবং ধীরে ধীরে বাড়ি ফিরলেন। বাড়িতে এসেই ভদ্রলোক ভীষণ রেগে গিয়ে ভগবানের যত ছবি, মূর্তি সব সরিয়ে দিলন। তার জীবনে আজ সবথেকে খারাপ দিন ছিল।

উনি তার সন্তান এবং স্ত্রীকে ডেকে বললেন – খবরদার আজ থেকে কেউ যেন এই বাড়িতে ভগবানের পুজ না করে। ভগবান বলে কিছুই নেই, সবই মিথ্যা। ভগবান অন্ধ।

এই পুর ঘটনায় সেই ব্যবসায়ী ভীষণ মর্মাহত হয়ে পড়েছিলেন, ফলে তিনি রাতে এই সব ভাবতে ভাবতে কিছু না খেয়েই শুয়ে পড়েন। এবং অনেকক্ষন ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে পড়েন।

তখন ভগবান স্বপ্নে তাকে দর্শন দিলেন, এবং বললেন – জানিস আজ তোর জীবনে শেষ দিন ছিল, তোর কপালে আজ মৃত্যু লেখা ছিল। কারন আগের জন্মে তুইও কিছু নির্দোষ তীর্থ যাত্রীদের গাড়ি চাপা দিয়ে মেরেছিলি। আর সেই সব সরল মানুষের মৃত্যুর ঋণ তোর উপর বকেয়া ছিল। কিন্তু এই জন্মের অনেক পূন্যের ফলে সেই ঋণ থেকে তুই অনেক টাই রেহাই পেয়েছিস।

আর ওই নীচ লোকটির আগের জন্মের ফল স্বরুপ তার আজকে রাজত্ব পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওর এই জন্মের খারাপ কাজের জন্য সে শুধু একটি টাকার ব্যাগই পেল।

স্বামী বিবেকানন্দ একবার একই প্রশ্ন তার গুরু শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবকে করেছিলেন – যে ভাল মানুষেরই জীবনে এত দুঃখ কষ্ট কেন ভোগ করে?

ঠাকুর উত্তরে বলেছিলেন – হীরা ঘষা না খেলে তার উজ্জ্বল বাড়ে না, আর সোনাকে পোড়ানো না হলে তার চমক ফুটে উঠে না। তাই ভাল মানুষেরা দুঃখ কষ্ট ভোগ করে না, তারা ভগবানের কাছে পরীক্ষা দেয়। জীবনের পরিক্ষা। আর তার থেকে হওয়া অভিজ্ঞাতা গুলিই মানুষকে আরো উন্নত হতে সাহায্য করে।

রামকৃষ্ণদেব আরো বললেন – আমাকে একটা কথা খুবই অবাক করে – মানুষ সমস্যায় পড়লে প্রশ্ন করে - আমিই কেন? আর যখন নতুন আনন্দে মেতে উঠে তখন প্রশ্ন করে না – আমিই কেন?

এই গল্পটি থেকে আমরা কি শিখতে পাই

জীবনে আমরা যতই দুঃখ কষ্ট, বিপদের মুখ মুখী হই না কেন, পরমাত্মা থেকে আমাদের কখনোই বিশ্বাস হারানো উচিৎ নয়। আজ যদি আমাদের সাথে খারাপ কিছু ঘটতে থাকে, তাস্বত্বেও যদি আমারা আমদের কর্তব্য গুলি সঠিক ভাবে পালন করতে থাকি, তো আমাদের সাথে অতটাও খারাপ হবে না যতটা খারাপ হওয়ার ছিল। কারন আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

তাই বলব নিষ্টার সাথে নিজের কর্ম করে জান, আর এমন কাজ করুন যা পুর দুনীয়া আপনার মত করতে চায়। কারন জীতবে তারাই যারা কিছু করে দেখাবে।

ইতিবাচক ভাবুন – ইতিবাচক বলুন – ইতিবাচক অনুভব করুন

Short motivational story | জীবনে প্রচুর অর্থ কীভাবে আসবে | Short stories with moral


বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ

‘Freedoms Today’ নামে আমাদের আরেকটি YouTube channel আছে। যেখানে আমরা Network marketing-এর সম্বন্ধে ভিডিও বানিয়ে থাকি। আপনি যদি Network marketing-এর সম্বন্ধে জানতে চান এবং Network marketing শিখতে চান তো এই channel টি follow করতে পারেন। এবং আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে আপনি আমাদের website visit করতে পারেন।

Freedoms Today Website: http://www.freedomstoday.com/

Freedoms Today YouTube channel: https://www.youtube.com/FreedomsToday

Email: freedomstoday1@gmail.com

Comments

Post a Comment