Motivational story | যারা ভাবছেন – আমার জীবনে আর কিছু হবে না | inspirational short stories

Motivational story | যারা ভাবছেন – আমার জীবনে আর কিছু হবে না | inspirational short stories


একে অন্যকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। কারন আপনি জানেন না উপরওয়ালা কখন মানুষ রুপে আপনাকেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে।

Positive stories bangla, inspirational short stories, short motivational stories
Motivational story - Job

আজকের গল্প – ‘চাকরি’।

একবার এক গরিব পরিবারের একটি ছেলে গ্রাম থেকে শহরে আসে সরকারি চাকরির আশায়। শহরে এসে সে চাকরির পরীক্ষার জন্য নিজেকে তৈরী করছিল। কিছু পরীক্ষা তার শেষ হয়েছিল এবং আরও কিছু পরীক্ষা তার বাকি ছিল।

হঠাৎ একদিন ছেলেটির কাছে আসে এক খুশীর খবর। তার একটি ইন্টারভিউ-এর চিঠি আসে। পরের দিন সকালে ছেলেটিকে যেতে হবে অনেক দূরে একটি জায়গায় ইন্টারভিউ দিতে। কিন্তু সমস্যা হল ছেলেটির কাছে পয়সা ছিল না। সারা ঘর তন্ন তন্ন করে খুঁজে সে পায় মাত্র ২০ টাকা।

গরিব পরিবারের ছেলে, শহরে থাকার খরচা, পড়ার খরচা, কিছুই বুঝে পাচ্ছিল না সে কি করবে। বন্ধুদের থেকেও টাকা ধার করে রেখেছে, এখনো শোধ করেনি। তাদের কাছে আবার টাকা চাওয়াটা লজ্জার ব্যাপার।

তবুও মনে প্রবল আশা নিয়ে পরের দিন সকালে, তার একটি মাত্র ভাল পোশাক সেটি পড়ে, কাগজপত্র সব নিয়ে সে বাসস্ট্যান্ডের দিকে রওনা হল। মনে মনে ভাবল কিছু না কিছু একটা ব্যবস্থা সে করেই নেবে। মনে মনে সে ভগবানকে ধন্যবাদও দিচ্ছিল, তার এই খুশির খবরটির জন্য।

সে বাসস্ট্যান্ডের দিকে যেতে যেতে আরও ভাবছিল যে পরিচিত কাউকে না কাউকে পেয়ে যাবেই। তার সাথে লিফট নিয়ে পৌঁছে যাবে এবং ইন্টারভিউ দিয়ে চলে আসবে।

অবশেষে ছেলেটি বাসস্ট্যান্ড পৌঁছাল। কিন্তু বাসস্ট্যান্ড গিয়ে সে তার কোনো পরিচিত কাউকে দেখতে পেল না। ছেলেটি একদম উদাস হয়ে গেল এবং নিরাশ হয়ে বাড়ি ফেরের পথ ধরল।

বাসস্ট্যান্ড থেকে কিছটা দুরেই একটি বড় মন্দির ছিল। ছেলেটি ভাবল যাক একবার ভাগবানের কাছে গিয়েই প্রার্থনা করি, যদি উনি আমায় কোনও রাস্তা দেখান।

সে মন্দিরে পৌঁছে জুতো খুলে সিঁড়ি বেয়ে উপরে যায়, প্রনাম করে এবং বলে যে হ্যে ভগবান এবার আপনিই এই সমস্যা থেকে আমাকে বঁচাতে পারেন।

ভগবানের কাছে প্রার্থনা সেরে সে বেরিয়ে এসে সিঁড়িতে বসে জুতোর ফিতে বাঁধছিল। তখন সে লক্ষ করল পাশেই একটি ভিখারি ভিক্ষা করছে। তার ভিক্ষার থালায় অনেক গুলি টাকা আছে। সেটা দেখে ছেলেটি পেছেনে ফিরে আবার মন্দিরের ভগবানের দিকে তাকায়। এবং মনে মনে ভগবানকে বলে - বাঃ যার দরকার আছে তাকে দিচ্ছ না, আর যার দরকার নেই তাকে অনেক দিয়ে রেখেছ!

ভিখারি ছেলেটির মনের কথা আন্দাজ করে তাকে বলে - কি ব্যাপার, তুমি কি কোনো চিন্তার মধ্যে আছ? আমি কি তোমার কোন উপকার করতে পারি?

ছেলেটি বলল – বাবা, আপনি আমার কি উপকার করবেন? আপনি তো নিজেই ভিক্ষা করে আয় করছেন!

ভিখারি বলল – না আমি ভিক্ষা করে আয় করি না। এই মন্দিরে যারাই আসে এবং আমাকে ভিক্ষা দেয়, তারা এই জন্য আমাকে ভিক্ষা দেয় না, যে আমি ভিক্ষা চাই। তারা পূন্য কামানোর জন্য আমাকে ভিক্ষা দেয়। তারপর বলল আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি। বল কি ব্যাপার?

ছেলেটি বলল – ইন্টারভিউ দিতে যাব, কম করেও ২০০ থেকে ২৫০ টাকা লাগবে।

ভিখারি বলল – আমার থেকে তুমি টাকা নিয়ে যাও। আমার বেশি টাকার প্রয়োজন হয় না। টাকা পয়সার প্রতি মোহও আমার নেই। একবেলা খাবার খাই। অসুস্থ থাকি তার জন্য কিছু

অসুধের দরকার হয়। তারপর বাকি টাকা যা বাচে সন্ধ্যায় নিজে গিয়েই তা মন্দিরের দান বাক্সে দিয়ে দিই।

ছেলেটি ভিখারির কথায় বিশ্বাস করে নেয় এবং তার থেকে টাকা নেয় ইন্টারভিউ দিতে যাবার জন্য। তারপর বলে – বাবা যখন আমার কাছে টাকা আসবে আমি কিন্তু আপনাকে অবশ্যই ফেরত দেব।

ভিখারি বলল – কোন অসুবিধা নেই, আমি এখানেই থাকব। আমার আর কোনও ঠিকানা নেই।

ছেলেটি ইন্টারভিউ দিতে যায় এবং ভাগ্যক্রমে সে পাশ করে যায়। তাকে নির্বাচন করা হয়। ভীষণ খুশি হয়ে ছেলেটি যখন ফিরে আসছিল সে মনে মনে ভাবছিল যে যাবার সময় একবার সেই ভিখারি বাবাকে ধন্যবাদ দিয়ে যাবে। আজ তার জন্যই এই চমৎকার হয়েছে।

ছেলেটি মন্দিরের কাছে পৌঁছাল। পৌঁছে দেখল সেখানর দৃশ্য পাল্টে গেছে। সেখান ভিড় করে অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে আছে, আর কি যেন বলা বলি করছে।

সেই ভিড়ের মধ্যে এক ভদ্রলোককে ছেলেটি জিজ্ঞেস করল – দাদা কি হয়েছে?

ভদ্রলোক বলল – এখানে একটি ভিখারি থাকত, সেই ভিখারিটি মারা গেছে।

ছেলেটি ভিড় ঠেলে আগে যায়। গিয়ে দেখে সিত্যি সেই ভিখারি বাবা যে তাকে সাহায্য করেছিল, সে মরে পরে আছে।

ভিড়ের মধ্যে থেকে একজন বলল - মনে হয় আজকে অসুধ খায় নি। পয়সা ছিল না মনে হয়, এই কারনে চলে গেল।

ছেলেটি মনে মনে বলল - বাঃ ভগবান, একটি মানুষ আরেকজনের জীবন তৈরী করতে গিয়ে নিজের জীবন বলিদান দিয়ে দিল।

এরপর ছেলেটি বুঝে পায় না সে কি করবে, সে আচম্বিত হয়ে যায়।

ভিড়ের মধ্যে থেকে আরেকজন বলে উঠল – যাক ভিখারি ছিল, মরে গেছে ভালোই হয়েছে। এমনিতেই কোনো কাজের ছিল না।

এই গল্পটা থেকে কি শিখলাম?

তো বন্ধুরা এই ছোট গল্পটি থেকে আমরা দুটি শিক্ষা পাই। প্রথম কথা সবসময় একে অন্যকে সাহায্য করুন। কারন আমরা একে অন্যকে সাহায্যের মাধ্যমেই আগে যেতে পারব।

এবং দ্বিতীয় কথা আপনি যখন ভাবছেন আপনার জীবনে আর কিছুই হবে না, তো ভরসা রাখুন। কোন কোন উপায়ে আপনি অবশ্যই সাহায্য পাবেন। আপনি জানেন না উপরওয়ালা কখন মানুষ রুপেই আপনাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে।

সুতরাং সাহায্য করুন এবং বিশ্বাস রাখুন আপনার জীবনেও কোন না কোন উপরওয়ালা নিশ্চই আসবে। তাই বার বার বলব এমন কিছু করুন যা মানুষ আপনার মত করতে চায়। কারন জীতবে তারাই যারা কিছু করে দেখাবে।

ইতিবাচক ভাবুন – ইতিবাচক বলুন – ইতিবাচক অনুভব করুন

Motivational story | অসৎ কাজকে পরিত্যাগ করুন, নাহলে কর্মফল ভুগতেই হবে | inspirational short stories


বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ

‘Freedoms Today’ নামে আমাদের আরেকটি YouTube channel আছে। যেখানে আমরা Network marketing-এর সম্বন্ধে ভিডিও বানিয়ে থাকি। আপনি যদি Network marketing-এর সম্বন্ধে জানতে চান এবং Network marketing শিখতে চান তো এই channel টি follow করতে পারেন। এবং আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে আপনি আমাদের website visit করতে পারেন।

Freedoms Today Website: http://www.freedomstoday.com/

Freedoms Today YouTube channel: https://www.youtube.com/FreedomsToday

Email: freedomstoday1@gmail.com



Comments