Ticker

6/recent/ticker-posts

Positive story | ভাল কাজ করুন, একদিন আপনি রাজা হবেন | inspirational short stories

Positive story | ভাল কাজ করুন, একদিন আপনি রাজা হবেন | inspirational short stories


একই সময়ে, একই মূহুর্তে জন্ম নেওয়া মানুষের ভাগ্য এবং কর্ম আলাদা আলাদা কেন হয়? কারণ কর্ম এবং ব্যবহার অনুসারে আগামী জন্মে ফল পাওয়া যায়।


positive stories bangla, short motivational stories, motivational bangla golpo
Motivational story - karma


আজকের গল্প – ‘কর্মফল’।

একজন রাজা ছিল। যার মনে একদিন এই প্রশ্নটাই আসল যে - একই সময়ে, একই মূহুর্তে জন্ম নেওয়া মানুষের ভাগ্য এবং কর্ম আলাদা আলাদা কেন হয়? যে তারা আলাদা আলাদা কাজ করে।

একদিন উনি উনার রাজ সভায় সমস্ত বিদ্যাবানদের ডেকে পাঠালেন, এবং প্রশ্ন করলেন। আমি আমার জাতপত্রিকা দেখেছি। তাতে আমার রাজা হবার যোগ ছিল। কিন্তু প্রশ্ন হল - যে সময়ে, যে মূহুর্তে আমি জন্ম নিয়েছি, সেই একই সময়ে, একই মূহুর্তে আরো অনেক বাচ্চারা জন্ম নিয়েছে। কিন্তু তারা রাজা হতে পারল না কেন?

এই প্রশ্নটা শুনে সবাই চমকে গেল। কেউ ভেবেই পাচ্ছিল না যে কি উওর দেবে। তবুও তাদের মধ্যে একজন জ্যোতিষী বললেন - রাজা মশাই আপনার প্রশ্নটি খুবই উত্তম। কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর আপনাকে একজনই দিতে পারে। এখান থেকে কয়েক ক্রোশ দূরে ঘন জঙ্গলে এক মহাত্মা তপস্যা করছেন। আপনি তার কাছে যান।

রাজা বললেন - ঠিক আছে। এই বলে রাজা ঘোড়ার পিঠে করে বেড়িয়ে পড়লেন। কয়েক ক্রোশ অতিক্রম করে উনি ঘন জঙ্গলের মধ্যে সেই মহাত্মার কাছে এসে পৌঁছালেন।

পৌঁছে গিয়ে তিনি দেখলেন সেই মহাত্মা আগুন থেকে জলন্ত কয়লা নিয়ে খাচ্ছেন। রাজা কিছুই বুঝতে পারলেন না, যে সেই মহাত্মা এটা কি করছেন?

তবুও তিনি মহাত্মাকে প্রশ্ন করলেন- বাবাজি যে সময়ে, যে মূহুর্তে আমি জন্ম নিয়েছি, সেই একই সময়ে, একই মূহুর্তে আরো অনেক বাচ্চারা জন্ম নিয়েছে, কিন্তু তারা রাজা হতে পারল না কেন?

এই প্রশ্ন শুনে সেই মহাত্মা ভিষন রেগে গেলেন। বললেন এই প্রশ্নের উত্তর আমি দিতে পারব না। তুমি আরো আগে যাও। সেখানে তোমার আরেক জন মহাত্মার সাথে দেখা হবে। উনিই তোমাকে এই প্রশ্নের উত্তর দেবেন।

রাজা আর কি করেন, তার এই উত্তরটা জানার ভিষন ইচ্ছা। তিনি আবার ঘোড়ার পিঠে চাপলেন এবং জঙ্গলের রাস্তায় এগিয়ে গেলেন।

বেশ কিছুদূর যাবার পর তিনি সেই মহাত্মার দেখা পেলেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি দেখলেন সেই মহাত্মা তার নিজের গায়ের মাংস খুবলে খুবলে খাচ্ছেন।

রাজা এই দৃশ্য দেখতে পারছিলেন না। কিন্তু তবুও তিনি হিম্মত করে উনার কাছে গিয়ে সেই একই প্রশ্ন করলেন। যে সময়ে, যে মূহুর্তে আমি জন্ম নিয়েছি, সেই একই সময়ে, একই মূহুর্তে আরো অনেক বাচ্চারা জন্ম নিয়েছে। কিন্তু তারা রাজা হতে পারল না কেন?

এবার এই প্রশ্ন শুনে এই মহাত্মা আরো রেগে গেলেন এবং রাজাকে বললেন - তুমি মুর্খ, তুমি এখনি এখান থেকে চলে যাও।

আরো বললেন - এখান থেকে অনেক দূরে যাবার পর একটি গ্রাম আসবে। সেই গ্রামে একটি চার পাঁচ বছরের বাচ্চা মরে যেতে বসেছে। তুমি তারাতারি যাও এবং সেই বাচ্চাটি মরে যাবার আগে তুমি তোমার প্রশ্নের উত্তর জেনে নাও।

রাজা কিছুতেই বুঝতে পারছিলেন না যে খেলা কি চলছে? আগে দুজন মহাত্মার সঙ্গে দেখা। এবার তিন নম্বরে একটি বাচ্ছা। সে আবার মরতে বসেছে। রাজা আবার ঘোড়ার পিঠে চাপলেন এবং এগিয়ে গেলেন।

রাজা সেই গ্রামে গিয়ে সেই বাচ্চার কাছে গিয়ে পৌঁছালেন। দেখলেন বাচ্ছাটি বিছানায় শুয়ে আছে এবং তার আসে পাশে তার বাবা মা এবং পরিবারের সবাই বসে আছে। একজন ব্যাদও দাঁড়িয়ে আছেন।

বাচ্চাটি শুয়ে ছিল। রাজা তার কাছে গিয়ে বললেন যে আমার একটি প্রশ্ন আছে। এর আগে দুজন বাবাজির কাছে প্রশ্নটি করেছিলাম। কিন্তু তারা বললেন আপনিই এই উত্তর দিতে পারবেন। এই বলে সেই একই প্রশ্ন রাজা বাচ্চাটির কাছে করলেন।

প্রশ্ন শুনে বাচ্ছাটি একটু হেসে বললেন - হে রাজন আপনি আগে যে দুজন মহাত্মার সাথে দেখা করেছেন উনারা এবং আমি এই তিনজন একসময় আপনার ভাই ছিলাম। সাত জন্ম আগে আমারা চারজনই রাজকুমার ছিলাম।

একদিন জঙ্গলে ঘুরতে ঘুরতে আমরা হারিয়ে যাই এবং আমাদের খুব খিদা পেয়েছিল এবং ভীষণ জল তেষ্টাও পেয়েছিল। তখন আমারা একটা আটার পোটলা খুঁজে পাই এবং সেই আটা দিয়ে আমরা চারজন রুটি বানাই। 


কিন্তু যখন রুটি খেতে যাব তখন একজন মুনিবর সেখানে আসেন এবং বললেন - আমার খাবার জন্য একটি রুটি দাও।

তখন আমাদের মধ্যে যে বড় ভাই ছিল যাকে আপনি প্রথমে জলন্ত কয়লা খেতে দেখেছিলেন, সে বলল - আমি আপনাকে কেন দেব? আপনাকে দিলে আমি কি খাব?

দ্বিতীয় ভাই বলল - আমি আপনাকে রুটি দিতে পারবো না। আপনাকে দিলে আমি কি আমার নিজের মাংস ছিঁড়ে খাব?

এবং তৃতীয় ভাই মানে আমি - আমিও বললাম যে আমিও আপনাকে রুটি দিতে পারব না।

চতুর্থ রাজ কুমার ছিলেন আপনি – আপনি আপনার রুটির থেকে অর্ধেক সেই মুনিবরকে দিলেন।

মুনিবর খুশি হয়ে আপনাকে বলেন যে - তুমি তোমার কর্ম এবং ব্যবহার অনুসারেই আগামি জন্মে ফল পাবে। এই কারনে আজ আপনি রাজা এবং আমাদের কর্মফল আপনি দেখতেই পাচ্ছেন।

এই গল্পটা থেকে কি শিখলাম?

তো বন্ধুরা, জীবনে কেউ একটা দারুন কথা বলেছেন যে - একটি ভুল password দিয়ে যখন একটি ছোট মোবাই ফোন খোলা যায় না, তখন একটি ভূল কাজ করে আপনার ভাগ্যের দরজা কি ভাবে খুলতে পারে? এই জন্য আপনাদের বলি খুব পরিশ্রম করুন। সৎপথে করুন। আপনার লক্ষ্যকে কল্পনা করুন। বার বার কল্পনা করুন। ততক্ষণ কল্পনা করুন, যতক্ষন না আপনি সেটা অর্জন করতে পারছেন। মনে রাখুন জীতবে তারাই যারা কিছু করে দেখাবে।

ইতিবাচক ভাবুন – ইতিবাচক বলুন – ইতিবাচক অনুভব করুন

Positive story | নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন, আপনি অবশ্যই জয়ী হবেন | inspirational short stories



বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ

‘Freedoms Today’ নামে আমাদের আরেকটি YouTube channel আছে। যেখানে আমরা Network marketing-এর সম্বন্ধে ভিডিও বানিয়ে থাকি। আপনি যদি Network marketing-এর সম্বন্ধে জানতে চান এবং Network marketing শিখতে চান তো এই channel টি follow করতে পারেন, এবং আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে আপনি আমাদের website visit করতে পারেন।

Freedoms Today Website: http://www.freedomstoday.com/

Freedoms Today YouTube channel: https://www.youtube.com/FreedomsToday

Email: freedomstoday1@gmail.com

Post a Comment

1 Comments